দুনিয়ার জীবনের অসারতা ও আখিরাতের জীবনের গুরুত্ব

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) তাঁর কতক সাহাবীকে অতিক্রম করছিলেন। তখন তারা হাস্যালাপ ও কথাবার্তায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং লোকজন কাঁদতে লাগলো। তখন মহামহিম আল্লাহ ওহী নাযিল করেন, হে মুহাম্মাদ! আমার বান্দাদেরকে কেন নিরাশ করছো। নবী (সাঃ) ফিরে এসে বলেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, সরল পথ অবলম্বন করো এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে তৎপর হও (বুখারী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।

এই হাদিসে নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবীগণকে হাস্য-রস ও কথাবার্তায় মশগুল হতে দেখে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, যদি তারা জানতে পারত যে, আমি যা জানি তা, তাহলে তারা অবশ্যই কম হাসত এবং বেশী কাঁদত।


এই কথার অর্থ হল, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এর সুখ-শান্তি স্থায়ী নয়। এর বিপরীতে আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী এবং এর কল্যাণ ও সুখ স্থায়ী। তাই দুনিয়ার জীবনের সুখ-শান্তিতে মগ্ন না হয়ে আখিরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।


হাদিসে উল্লেখিত "কাঁদতে" বলার অর্থ হল, দুনিয়ার জীবনের অসারতা ও আখিরাতের জীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।


হাদিসে উল্লেখিত "সুসংবাদ গ্রহণ করো" বলার অর্থ হল, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার সুসংবাদ গ্রহণ করা। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছুক। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা লাভের জন্য চেষ্টা করা উচিত।


হাদিসে উল্লেখিত "সরল পথ অবলম্বন করো" বলার অর্থ হল, ইসলামের সহজ সরল পথ অনুসরণ করা। কেননা, ইসলামই হল সত্য ও ন্যায়ের পথ। তাই ইসলামের অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উচিত।


হাদিসে উল্লেখিত "আল্লাহর নৈকট্য লাভে তৎপর হও" বলার অর্থ হল, আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা। কেননা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়ার ও আখিরাতের সকল কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।


সুতরাং, এই হাদিস থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনের অসারতা ও আখিরাতের জীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। এজন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, ইসলামের সহজ সরল পথ অনুসরণ করা এবং আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

মন্তব্যসমূহ